নরসিংদীর মাধবদীতে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ‘ড. রফিকুল ইসলাম খান হাসপাতাল’ এখন কেবলই এক পরিত্যক্ত অট্টালিকা। গত ৩ বছর ৪ মাস ধরে হাসপাতালটি কার্যক্রমহীন ও তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ৩০ হাজার বর্গফুটের বিশাল আধুনিক অবকাঠামো, অপারেশন থিয়েটার ও দামী সব চিকিৎসা সরঞ্জাম থাকলেও প্রশাসনিক জটিলতার বেড়াজালে আটকে আছে স্থানীয় লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবা।
২০১২ সালে ৬ তলা বিশিষ্ট এই আধুনিক ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। প্রায় ৩০ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই হাসপাতালে রয়েছে উন্নত চিকিৎসার সব সুযোগ-সুবিধা।
আধুনিক শয্যা ও সরঞ্জাম: ৩০টির বেশি শয্যা, আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও নবজাতকদের জন্য ইনকিউবেটর।
: নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স, লিফট, চিকিৎসক ও প্রশাসনিক ব্লক।নিরাপত্তা ও পার্কিং: পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গাড়ি পার্কিংয়ের বিশাল সুবিধা।
এত বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হওয়ার পরও কেবল তদারকি ও জনবলের অভাবে হাসপাতালটি এখন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।
অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সম্পদ, জমিদাতার আকুতি
জনকল্যাণের জন্য নিজের মহামূল্যবান ভূমি দান করেছিলেন প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিক ও বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম খান। হাসপাতালের বর্তমান শোচনীয় দশা দেখে তিনি ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সম্পদ রক্ষার্থে এবং দ্রুত হাসপাতালটি চালুর দাবিতে তিনি সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
ড. রফিকুল ইসলাম খান বলেন:
“সরকার যেখানে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর, সেখানে একটি আধুনিক হাসপাতাল তিন বছর ধরে তালাবদ্ধ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
২০০৬ সালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ও বিদেশি অনুদানে হাসপাতালটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। নির্মাণের পর এর দায়িত্ব দেওয়া হয় মাধবদী পৌরসভাকে। কিন্তু আর্থিক ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে পৌরসভা এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে ব্যর্থ হয়েছে।
১. হাসপাতালটিকে অবিলম্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করা হোক।
২. প্রয়োজনীয় জনবল (ম্যানপাওয়ার) নিয়োগ দিয়ে দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ হাসপাতাল হিসেবে এটি চালু করা হোক।
ইতিমধ্যেই এলাকার ৫০০ সচেতন নাগরিকের স্বাক্ষর সংবলিত একটি আবেদন জেলা প্রশাসক বরাবর জমা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে হাসপাতালটি সচল করার নির্দেশ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার লাখো মানুষের প্রাণের দাবি—বিপুল সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই সম্পদটি যেন ব্যক্তিস্বার্থ বা অবহেলায় নষ্ট না হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এটি নরসিংদীর অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
মোঃ নজরুল ইসলাম নরসিংদী জেলা প্রতিনিধি ঃ
নরসিংদী,শুক্রবার ০৬ মার্চ এইচ বি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।




















